ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র গড়তে দেওয়া হবে না: ট্রাম্প

May 22, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের শুল্ক (টোল) আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ইরানকে কোনোভাবেই উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজের কাছে রাখতে দেওয়া হবে না এবং মার্কিন প্রশাসন তা কেড়ে নেবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যেকোনো উপায়েই হোক ইরান থেকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা হবে।

উদ্ধারের পর ইউরেনিয়াম ধ্বংসের ঘোষণা:
ভবিষ্যতের কোনো চুক্তির আওতায় ইরান উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজের কাছে রাখতে পারবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমরা নিয়ে নেব। আমাদের এটার কোনো প্রয়োজন বা চাওয়া নেই। এটি পাওয়ার পর সম্ভবত আমরা তা ধ্বংস করে ফেলব, কিন্তু আমরা কিছুতেই তা তাদের কাছে রাখতে দেব না।”

ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়, তবে আমরা এটি যেকোনো উপায়ে উদ্ধার করবই। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।”

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথ:
ওমান ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে আনুষ্ঠানিক শুল্ক আরোপের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করছে বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এই প্রণালীতে সামুদ্রিক যাতায়াতের ওপর মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা কোনো শুল্ক বা টোল চাই না। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। তারা এই মুহূর্তে কোনো শুল্ক আদায় করছে না।” ট্রাম্প দাবি করেন, জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ইরান বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ইস্পাত দেয়ালের মতো মার্কিন অবরোধ:
ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী কার্যকর সামরিক অবরোধ জারি রেখেছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আপনারা ভালো করেই জানেন, আমাদের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই অবরোধ ১০০ ভাগ সফল হয়েছে। কেউ এটি পার হয়ে যেতে পারছে না। এটি একটি ইস্পাত দেয়ালের মতো কাজ করছে।”

উত্তেজনার পটভূমি:
আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী কোনো চুক্তি হয়নি। ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ আসা-যাওয়ার ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে বহাল রেখেছেন।



Leave a Comment