বরিশাল জামায়াতের বিক্ষোভ: দ্রব্যমূল্য না কমলে জনগণকে নিয়ে দুর্বার প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি
বরিশাল প্রতিনিধি: সরকার একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে যাচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার যদি জনগণের ওপর এই পীড়নমূলক নীতি বন্ধ না করে, তবে জনগণের দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবর।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরী শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের মতো জুলুম ও চাঁদাবাজি চলছে:
মাওলানা জহির উদ্দিন বাবর তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মতো এখনও দেশে জুলুম-নির্যাতন চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ফলে গুম ও খুনের মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের পকেটের কথা বিবেচনা না করেই দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অথচ দেশে দায়িত্বশীল বিরোধী দল থাকার পরও তাদের সঙ্গে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। অতীতে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার মূল্যবৃদ্ধির এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই কমিটির সঙ্গেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেনি।”
হাস হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে সরকারকে হুঁশিয়ারি:
সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, “শেখ হাসিনা রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়িয়েছিলেন, আর দেশের ক্ষুব্ধ জনগণ তাকে দিনের আলোয় দেশছাড়া করেছে। বর্তমান সরকারও যদি জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে এভাবে প্রতিনিয়ত দাম বাড়াতে থাকে, তবে জনগণ আবারও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তাই জনগণের মনের ভাষা বুঝে সরকারকে অনতিবিলম্বে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে।”
ব্যাংক গভর্নরের অপসারণ দাবি:
দেশের অর্থনৈতিক খাতের সমালোচনা করে মাওলানা বাবর বলেন, “সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে একজন চিহ্নিত ঋণখেলাপীকে নিয়োগ দিয়েছে। তার ভুল ও বিতর্কিত নীতিমালার হাত ধরে দেশের অচল ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এই গভর্নরকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সকল ব্যাংকিং খাতে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহর সঞ্চালনায় এই বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান নাঈম।
এছাড়া সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জয়নুল আবেদীন, কোতোয়ালি উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, কাউনিয়া থানা আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার এবং আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের শহীদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।