গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক-জনতার আন্দোলন চলবে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
চট্টগ্রাম ব্যুরো: জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত দেশের শ্রমিক ও মেহনতি জনতা রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, “সরকার যদি জনগণের রায়কে সম্মান না করে, তবে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে। শ্রমিকদের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে জামায়াত ও শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
ইসলামী আদর্শ ও জনবান্ধব বাজেটের দাবি:
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানব রচিত কোনো মতবাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাজেটকে আরও জনবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব করা প্রয়োজন ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।” তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো এবং ভুল সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা করা জামায়াতে ইসলামীর নীতিগত অবস্থান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
| খাতের বিবরণ ও সূচক | বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান | শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দাবি ও প্রস্তাব |
| জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ | জাতীয় বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২০১৬-১৭ সালের ০.০৬% থেকে কমে বর্তমানে ০.০৪%-এ নেমেছে। | দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে জাতীয় বাজেটে অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে। |
| ন্যূনতম মজুরি বনাম ব্যয় | বর্তমানে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা। | ৪ সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ২৮-৩০ হাজার টাকা। তাই মজুরি কাঠামো দ্রুত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। |
| চট্টগ্রাম বন্দর ও উন্নয়ন | চট্টগ্রাম বন্দরকে লুটপাটের কেন্দ্র বানানো এবং টেন্ডার ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর পরিচালনার ষড়যন্ত্র। | বন্দর রক্ষা, বিপিসির কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর বন্ধ করা এবং দ্রুত মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন দেওয়া। |
ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি:
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান শ্রমিক সমাজকে আত্মশুদ্ধি ও যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
নগর জামায়াত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা আপনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, তাদের কথায় চললে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। আপনি ১৮ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, তাই দেশের মর্যাদা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। চট্টগ্রাম বন্দরসহ সর্বত্র আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদের (নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ) প্রতিষ্ঠা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, এ বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি বিএনপি-কে ভোটের পূর্বে দেশে মদিনার শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাসুল (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহ ধারণ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামকে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হয়েছে। টেন্ডার ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর পরিচালনার যেকোনো চক্রান্ত শ্রমিক-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সম্মেলনে উপস্থিত মেহমান ও নেতৃবৃন্দ:
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মেগা প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন।
আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও মুহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার, এবং নগর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া।
এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআরআইএল-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, চট্টগ্রাম নগর ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।