প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন দুটির বিতর্কিত নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌফিকুর রহমান। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জনগণের আবেগকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিপূর্বেই ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের জন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর সন্তানের নামের সাথে মিল ও বিভ্রান্তি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নবগঠিত এই দুই ইউনিয়নের নাম বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির দুই সন্তানের নামের সঙ্গে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ বা মিল ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা এবং নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় খোদ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজেও চরম বিব্রতবোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে যেন কেউ কোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যা বা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ না পায়, সে জন্য প্রতিমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে জেলা প্রশাসককে ইউনিয়ন দুটির নাম দ্রুত পরিবর্তন করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।
| পূর্বের বিতর্কিত নাম | নাম পরিবর্তনের মূল কারণ | নতুন নাম নির্ধারণের ৩টি মূল ভিত্তি | পরবর্তী প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া |
| ১. সীমান্ত ইউনিয়ন ২. দিগন্ত ইউনিয়ন | সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর দুই সন্তানের নামের সাথে আংশিক মিল থাকায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব বিব্রতবোধ। | ১. স্থানীয় জনগণের মতামত ২. এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ৩. ভৌগোলিক পরিচিতি | নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তা ঢাকা গেজেট আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। |
জনগণের মতামত নিয়ে পুনঃগণশুনানির ঘোষণা:
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা কোনো চাপিয়ে দেওয়া নাম নয়, বরং স্থানীয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাই। নতুন নাম নির্ধারণের লক্ষ্যে খুব দ্রুতই এলাকায় ‘পুনঃগণশুনানি’র আয়োজন করা হবে। সেখানে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল সমাজের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার ঐতিহ্যবাহী কোনো নাম চূড়ান্ত করা হবে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গণশুনানি শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন নামের প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সায় পাওয়ার পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলে নতুন নাম দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মোকামতলা এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।