পতিত শক্তি আর ফিরতে পারবে না, সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাচার করা বিপুল কালো টাকা দিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের সচেতন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে সব ধরনের সন্ত্রাসী ও উসকানিমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। বাংলাদেশে আর কখনোই গুম ও ক্রসফায়ারের রাজত্ব ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।
নয়াপল্টনে বড় শোডাউন:
রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আজ সকালে নয়াপল্টনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
রিজভীর বক্তব্যের শীর্ষ ৫টি মূল রাজনৈতিক দিক:
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিগত সরকারের আমল নিয়ে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন:
১. ফ্যাসিবাদ ও দাসত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান: বাংলাদেশে আর কোনোদিন পতিত ফ্যাসিবাদকে ফিরতে দেওয়া হবে না। দেশের জনগণ এখন সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ, তাই এই দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না।
২. ৪ মাসের সুশাসন: বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে দেশে কোনো গুম কিংবা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করা হয়নি।
৩. অধিকারের নতুন বাংলাদেশ: বাংলাদেশ এখন সুশাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
৪. নেতাকর্মীদের প্রতি সতর্কবার্তা: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা নানাভাবে উসকানিমূলক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে। তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিন প্রতিটি নেতাকর্মীকে রাজপথে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
৫. সার্বভৌমত্ব রক্ষা: ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের জনগণ কখনো অন্যের গোলামত্ব মেনে নেবে না।
জনগণ কখনো গুমের রাজত্ব ফিরতে দেবে না:
সমাবেশে রিজভী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের অসংখ্য বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছিল এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। একটি সুনির্দিষ্ট মহল আবারও জনগণের এই নতুন গণতান্ত্রিক অর্জন নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তবে দেশের সাধারণ জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকায় তাদের সেই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ সবসময় রাজপথে সচেতন থাকবে।