পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক: পার্বত্য জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের দ্রুত সরানোর আহ্বান

July 6, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজার জেলাজুড়ে টানা ও ভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ অন্তত ৯ জন নিরীহ মানুষের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ সোমবার (৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ শোক বিবৃতিতে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, টানা ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে গতকাল রবিবার দিবাগত রাত একটা থেকে আজ সোমবার ভোর চারটা পর্যন্ত পৃথক স্থানে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের অসহায় বাসিন্দাসহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হতাহতের ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত হয়েছেন উল্লেখ করে মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের রূহের মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে তিনি স্বজনহারা পরিবারগুলোর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা জানান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল তাঁর বিবৃতিতে এই সংকটের মূল কারণ তুলে ধরে বলেন, মূলত মিয়ানমারের জান্তা সরকারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিনের বর্বর, অমানবিক ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই এই বিশাল জনসংখ্যা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশের পাহাড়ের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে বছরের পর বছর বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হওয়া এবং নির্মমভাবে প্রাণ হারানো এসব রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই মিয়ানমারের জান্তা সরকার এড়াতে পারে না, এই দায় সম্পূর্ণ তাদের ওপরও বর্তায়। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতি আরও দৃঢ়, জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান সাবেক এই সংসদ সদস্য।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় এতগুলো মূল্যবান মানুষের অকাল প্রাণহানি দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকার্ত পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিসহ দেশের সামগ্রিক পার্বত্য জেলাসমূহে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী সাধারণ বাসিন্দাদের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে দুর্যোগপূর্ব বিশেষ সতর্কতা জারি করার এবং তাদের দ্রুততার সাথে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জরুরি আহ্বান জানান।



Leave a Comment