দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারায় সরকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে: জামায়াত আমির
বিশেষ প্রতিবেদক: দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করায় বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ।
সরকারের সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ
রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একজন সিনিয়র নেতা গতকাল বলেছেন পাঁচ মাসের এই সরকারের সময়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং বেড়েছে এবং তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, তিনি চান না, অথচ সবাই দুর্নীতি করে—এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা দেখি তাঁর ইশারায় সব চলে। তাহলে তাঁর ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?”
তিনি আরও যোগ করেন, “যখন এই ব্যর্থতার দায় প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নেওয়া হলো, তখন কি এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে তারা দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।”
পরিবহনে চাঁদাবাজির ‘স্বীকৃতি’ ও শ্রমিকদের অবস্থা
পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা ও সরকারি দল সংশ্লিষ্টদের চাঁদা আদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা গদিতে বসে বলছেন সমঝোতার মাধ্যমে নিলে তা নাকি চাঁদাবাজি নয়। এতে করে মূলত চাঁদাবাজিকে জাতীয় সনদ বা নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।”
পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, “শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত চাঁদা দিতে না চাইলে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হচ্ছেন। এসব মূলত সরকারি দলের লোকজনের আশ্রয়েই ঘটছে। সরিষার মধ্যেই ভূত ঢুকে গেছে। তবে ইনশাআল্লাহ, এই বাংলাদেশ থেকে ভূত তাড়ানো হবে।”
জুলাই আন্দোলনের অর্জন ও গণভোট
জুলাই আন্দোলনের অর্জন নিয়ে জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জুলাইয়ের ত্যাগ ১৮ কোটি মানুষের অর্জন; এটি কোনো একক গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট দল একে নিজের বলে দাবি করতে পারে না। শহীদদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে, তবেই দেশে বীরের জন্ম হবে।”
একই সাথে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে। সেই গণরায়ের সাথে ধানাইপানাই বা অস্বীকার করার অর্থ দেশের মানুষকে অপমান করা। জনগণের এই রায় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।