ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায়: গ্রামে গ্রামে শোকের ছায়া
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের মরদেহ দীর্ঘ প্রায় এক মাস পর অবশেষে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে তাদের মরদেহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর ও আশাশুনির কাটাকাটি গ্রামের নিজ নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। লাশবাহী গাড়ি গ্রামে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। দুই পরিবারসহ পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এবং নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাঁদাকাঠি গ্রামে।
জীবিকার খোঁজে গিয়ে মাত্র ৩ মাসেই ট্র্যাজেডি:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ও জীবিকার সন্ধানে মাত্র ৩ মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদুল। কিন্তু গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়ে তারা নির্মমভাবে নিহত হন। এরপর দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় এক মাস পর তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হলো।
মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনার ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহত শফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে দুই প্রবাসীর মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় শত শত মানুষ। এলাকায় এখন জানাজার প্রস্তুতি চলছে।