ইরাকে যাত্রীবাহী বাস উল্টে ভয়াবহ আগুন: নিহত ২১

জুন ৮, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসিরিয়া শহরের কাছে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনা ও বাসে ছড়িয়ে পড়া আগুনে অন্তত ২১ জন ইরাকি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৯ জন গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উল্টে গিয়ে মুহূর্তেই দাউ দাউ আগুন:

স্থানীয় পুলিশ ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার বিকেলে নাসিরিয়া শহরের কাছের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে বাসটি তীব্র গতিতে চলছিল। এ সময় চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো যানবাহনে তীব্র আগুন ধরে যায়। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই আগুন পুরো বডিতে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২১ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ:

ভয়াবহ এই বাস ক্র্যাশের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি দুর্ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানের জন্য অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক:

নাসিরিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আহত ১৯ জনের মধ্যে অধিকাংশেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ বা পুড়ে যাওয়ার জনিত যন্ত্রণায় ভুগছেন। দগ্ধদের অনেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বাসের চালক ঠিক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারালেন—এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের ঘুমিয়ে পড়া, তা জানতে পুরো ঘটনাটির নিখুঁত তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ইরাকে অনিয়ন্ত্রিত গতি, সড়কের জরাজীর্ণ দশা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইনের অপর্যাপ্ত প্রয়োগের কারণে প্রতি বছর এই ধরণের মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



Leave a Comment