শান্তি চুক্তির মাঝেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় লেবাননে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত। দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহর পাল্টা চোরাগোপ্তা হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ চার ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ধারণা করা হয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মেগা চুক্তির মাধ্যমে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও সাময়িকভাবে থামবে। তবে নতুন করে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সহিংসতা চুক্তিটিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
‘লেবাননকে পুড়িয়ে ছারখার করতে হবে’—ইসরায়েলি মন্ত্রী:
রণক্ষেত্রে একসঙ্গে ৪ সেনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উগ্র-ডানপন্থি ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির চরম উস্কানিমূলক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘লেবাননকে অবশ্যই পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে হবে।’
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রাম ও শহরে রাতভর এবং সকাল পর্যন্ত চালানো এই বর্বর হামলায় প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ১৮ জন সাধারণ নাগরিক শহীদ এবং ৩৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের সর্বশেষ যুদ্ধ পরিস্থিতি:
| পক্ষ ও ফ্রন্টলাইন | সামরিক অভিযানের বিবরণ | ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান |
| ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) | দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকা ও পূর্বাঞ্চলের বালবেক অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ও কমান্ড সেন্টারে রাতভর বোমাবর্ষণ। | ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত (লেবানিজ নাগরিক)। আইডিএফের দাবি, তারা ডজন খানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে নির্মূল করেছে। |
| প্রতিরোধ যোদ্ধা দল (হিজবুল্লাহ) | নাবাতিয়েহর কাছাকাছি ইসরায়েলি সাঁজোয়া বহরকে লক্ষ্য করে ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। | ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত ও ৫ জন আহত। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আইডিএফ লেফটেন্যান্ট কর্নেল দোর গেদালিয়া বেন সিমহন। |
এতদিন সুরক্ষিত থাকা বালবেকেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা:
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, বালবেক এবং বেকা উপত্যকায় তাদের এই হামলা ছিল হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিক্রিয়া। তবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নাবাতিয়েহর কাছাকাছি এলাকায় প্রবেশ করা ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর ওপর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ জারি রেখেছে।
ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, নিহত ৪ সেনা একটি অত্যাধুনিক ট্যাংকের ভেতরে ছিলেন, যা হিজবুল্লাহর একটি আত্মঘাতী ড্রোন বা গাইডেড ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পৃথক আরেকটি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্ফোরক ড্রোনের আঘাতে একজন ইসরায়েলি রিজার্ভ অফিসার গুরুতরভাবে আহত এবং আরও চারজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। ২ মার্চ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পূর্বাঞ্চলের যে বালবেক অঞ্চলটি অনেকটাই সুরক্ষিত ছিল, সেখানেও এখন বিমান হামলার কারণে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।