শরীয়তপুরে ‘চোর’ সন্দেহে গণপিটুনি: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার অজ্ঞাত এক যুবকের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে ভোরে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গাইরা এলাকায় এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভ্যানচালক ইমান আলী মোল্যার বাড়িতে শুক্রবার ভোর রাতে এক ব্যক্তি ভ্যানগাড়ি চুরি করতে প্রবেশ করেন। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে ওই যুবককে ধরে ফেলেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করে ফেলে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার জানান:

“দুপুর ১২টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। আমরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও ভর্তির মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় তার মৃত্যু হয়।”

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ মোল্লা জানান, ভ্যান চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর উত্তেজিত জনতা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করেছিল।

লাশের পরিচয় মেলেনি
নিহত যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তার কাছে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া যায়নি। এমনকি পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর একটি দল আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করলেও ডাটাবেজে রেকর্ড না থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন:

“৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বর্তমানে নিহতের মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।



Leave a Comment