‘শিশু চোর’ সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘শিশু চোর’ সন্দেহে মো. আলম শেখ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নিজাম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আলম শেখ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনেরা তাঁকে দেখে ‘শিশু চোর’ বলে সন্দেহ করেন এবং হাসপাতালে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। আলম শেখ কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারলে উপস্থিত জনতা ও স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে গণধোলাই ও বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পুলিশের পদক্ষেপ ও পরিচয়ের সূত্র
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে আলম শেখের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে।
এসআই নিজাম উদ্দিন জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিহত আলম শেখ রাজধানীর রূপনগর এলাকার টিনশেড কলোনিতে বসবাস করতেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, আলম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং এর আগে স্ট্রোকও করেছিলেন।
মামলা ও ময়নাতদন্ত
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের কাজ চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।