পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর রণক্ষেত্র: ৪৮ ঘণ্টায় ২০০ এফআইআর, গ্রেপ্তার ৪৩৩
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক সহিংসতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ২০০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৩৩ জনকে।
বুধবার (৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজিপি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেন।
পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়
ডিজিপি জানান, গত ৪ মে ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মারধর, ভাঙচুর ও প্রতিপক্ষকে হুমকির অভিযোগ আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন:
“এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৩৩ জনকে।”
মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতার সহকারীকে গুলি করে হত্যা
সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে। বুধবার রাতে সেখানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কলকাতায় বিশেষ অভিযান
কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দ জানিয়েছেন, মহানগরে শান্তি বজায় রাখতে ‘বিশেষ অভিযান’ চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের এলাকা থেকে ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে এবং ১৫ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”
তদন্তে পুলিশ
ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত আরও জানান, রাজনৈতিক সহিংসতায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই দুটি ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে নতুন করে যাতে কোথাও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।