বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, সব চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সফল ঈদযাত্রা: সড়কমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চলছে। তবে কাউন্টার ও মূল বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু অসাধু চক্র সাধারণ যাত্রীদের বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।” আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চন্দ্রায় ধীরগতি থাকলেও ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক:
সড়কমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে এবারের ঈদযাত্রা মনিটরিং করা হচ্ছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি বা আংশিক যানজট থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মূলত সাত লেনের যানবাহন যখন হঠাৎ করে দুই লেনে প্রবেশ করছে, তখন সেখানে গাড়ির গতি কিছুটা কমে যাচ্ছে। তবে একে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বলা যাবে না, মাঠপর্যায়ে আমাদের টিম সক্রিয় রয়েছে।”
বিআরটিএর (BRTA) কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের সার্বিক পর্যবেক্ষণের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী দাবি করেন, “টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সাথে আমি নিজে কথা বলেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সরকারি ভাড়ায় নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারছেন। মাত্র ২-৩ দিনের ব্যবধানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন, একই সাথে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশুও পরিবহন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের শতভাগ সামর্থ্য উজার করে আমরা সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে এবার একটি স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি।”
রেলে নারীদের বিশেষ কোচ ও অতিরিক্ত বগি:
রেলপথের প্রস্তুতি নিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ইতিমধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেনে বিশেষ নারী কোচ সংযোজন করা হয়েছে। রুটগুলো হলো— ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ। তবে সব ট্রেনে এখনই এই সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ট্রেনের টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং আমাদের হাতে পর্যাপ্ত কোচও উদ্বৃত্ত নেই। তা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে রেলের বহরে অতিরিক্ত ৫১টি বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে।”
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট নিয়ে ক্ষোভ:
উত্তরা দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের ঠিক নিচে পশুর হাট বসানো সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেট্রো স্টেশনের নিচে কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা ছিল না। এই বিষয়ে আপনারা সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনকে গিয়ে প্রশ্ন করুন। যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে এখানে হাটের ইজারা দিয়েছে এবং টাকা পকেটে পুরেছে, এই দায় সম্পূর্ণ তাদের। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এর সাথে জড়িত নয়।”