হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬

মে ৩০, ২০২৬ | Feature-1 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রাণঘাতী হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও ৮টি নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৮৬ জন শিশু। আজ শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ তথ্য জানা গেছে।

২৪ ঘণ্টার মৃত্যু ও হাসপাতালের চিত্র:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮টি শিশুর প্রত্যেকেই সরাসরি হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তবে এই সময়ে ল্যাবরেটরি টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬টি শিশুর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ জন এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৩ জন। এই সময়ের মধ্যে রেকর্ড ৯০৭ জন শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩৯টি শিশু।

আড়াই মাসেই প্রাণ হারাল ৫৮৩ শিশু:

সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৩০ মে পর্যন্ত আড়াই মাসেরও কম সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে মোট ৪৯৩টি শিশু। এর পাশাপাশি ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯০টি শিশু। সব মিলিয়ে গত আড়াই মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৫৮৩টি শিশু মারা গেছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা।

আক্রান্ত ও সুস্থতার সামগ্রিক পরিস্থিতি:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বলছে, দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে। যার মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৫৫ হাজার ৭০৫ জন রোগীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এদের মধ্যে ৫২ হাজার ৫০ জন রোগী ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছে।

হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা চামড়ায় লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।



Leave a Comment