৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি, সিলগালা হচ্ছে ওয়ার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালটির ‘পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২’ সাময়িকভাবে সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. জাহিদ রায়হান গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ত্রুটির আশঙ্কা:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, “প্রাথমিক মূল্যায়নে আমাদের মনে হয়েছে, নবজাতকদের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে এনআইসিইউতে (NICU) স্থানান্তর বা নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি থাকতে পারে।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। পুরো বিষয়টি বিস্তারিত ও নিখুঁতভাবে জেনে পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে তা পরিষ্কার করা হবে।
আরো পড়ুন: এসির গ্যাস লিকেজে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও শিশু গুরুতর:
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একসঙ্গে এই ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গণমাধ্যমকে এই গণমৃত্যুর খবরটি প্রথম নিশ্চিত করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডে থাকা আরও বেশ কয়েকজন নবজাতক বর্তমানে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কারিগরি প্রমাণের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটসহ পুলিশের বিশেষ দল অবস্থান নিয়েছে। ৩ সদস্যের সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।