ঈদের দ্বিতীয় দিনেও দেশে চলছে কোরবানি

মে ২৯, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবারও (২৯ মে) রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পশু কোরবানি করছেন অনেক মুসলিম পরিবার। মূলত পারিবারিক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ঈদের প্রথম দিনে কসাই সংকটের ধকল এড়াতে অনেকেই আজ জিলহজ মাসের ১১ তারিখে উৎসবমুখর পরিবেশে কোরবানি দিচ্ছেন।

প্রথম দিনের চাপ ও কসাই সংকট এড়ানোর চেষ্টা:

আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বহু বাসাবাড়ির সামনে ও নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি এবং মাংস প্রস্তুতের কাজ চলছে। দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়া সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের প্রথম দিন দেশজুড়ে একসাথে লাখ লাখ পশু কোরবানি হওয়ায় পেশাদার কসাই বা মাংস প্রস্তুতকারকদের তীব্র সংকট তৈরি হয়। অতিরিক্ত এই মানসিক ও শারীরিক চাপ এবং ভোগান্তি এড়াতেই অনেকে পরিকল্পিতভাবে ঈদের দ্বিতীয় দিনটিকে বেছে নিয়েছেন।

মগবাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের পরিবারে অনেক বছর ধরে একটি ঐতিহ্য চলে আসছে—আমরা সবসময় ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে আসছি। এবারও আমরা সেই নিয়ম বা রেওয়াজ অনুসরণ করেই আজ স্বস্তির সাথে কোরবানি দিচ্ছি।”

কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে:

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও সমান তালে ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই ও মাংস কাটার মৌসুমি শ্রমিকরা। মতিন মিয়া নামের একজন পেশাদার কসাই গণমাধ্যমকে জানান, ঈদের প্রথম দিন তিনি তিনটি বড় গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। আজ দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকে তাঁর ডাক পড়েছে এবং একইভাবে তিনি দলবল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ইসলামী শরিয়তের বিধান:

ইসলামী শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্র অনুযায়ী, পবিত্র কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে মোট তিন দিন। আরবি হিজরি জিলহজ মাসের ১০, ১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করতে পারেন। ফলে সামাজিক ব্যস্ততা, দুর্যোগ কিংবা কসাই না পাওয়ার মতো যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে ঈদের দিন কোরবানি দেওয়া সম্ভব না হলে, পরবর্তী দুই দিনেও কোরবানি আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ ও শরিয়তসম্মত।



Leave a Comment