বিএসইসি চেয়ারম্যান ও ৪ কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে টানা অস্থিরতা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তীব্র ক্ষোভ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। একই সাথে কমিশনের আরও চারজন কমিশনারও একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাঁরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন— মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর ঘোষণার পরই পদত্যাগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ জুন রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের স্পষ্ট ঘোষণা দেন। মন্ত্রীর এই বড় ঘোষণার পর থেকেই বিএসইসিতে ব্যাপক পরিবর্তনের জোর আলোচনা শুরু হয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আজ চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন একযোগে পদত্যাগ করল।
যাঁদের পদের অবসান ঘটল:
বিএসইসির রেকর্ড অনুযায়ী, খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এছাড়া কমিশনারদের মধ্যে মু. মহসীন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, মো. আলী আকবর একই বছরের ২৮ আগস্ট, ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ মো. সাইফুদ্দিন ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তীব্র চাপের মুখে তাঁদের বিদায় নিতে হলো।
বিনিয়োগকারী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন:
উল্লেখ্য, খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএসইসিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক মাস ধরে টানা আন্দোলন করে আসছিলেন খোদ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে তাঁরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচি পালন করেন।
পাশাপাশি, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন ও লোকসানের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। বিনিয়োগকারীরাও দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিএসইসি পুনর্গঠনের জন্য রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই সম্মিলিত চাপের মুখেই পুরো কমিশন ভেঙে পড়ল।