২ বছর দাম না বাড়ানোর ওয়াদা দিয়ে ৩ মাসেই বিদ্যুৎ-তেলের দাম বাড়াল সরকার: ফখরুল ইসলাম

জুন ৪, ২০২৬ | জেলার খবর |

সিলেট ব্যুরো: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগে ওয়াদা করেছিল তারা দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করবে না। কিন্তু মাত্র ৩ মাসের মাথায় তারা অযৌক্তিকভাবে ৭৫ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি দেড় টাকা বৃদ্ধি করেছে। এমনিতেই দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমতাবস্থায় আবারও জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর ’মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো। অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ভোটের অভিযোগ:

মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সরকারের ৩ মাসের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতায় গিয়ে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা শপথ গ্রহণের পর থেকেই জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রথমে দুটি শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তারা প্রতারণা শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে গণভোট অস্বীকার, সংস্কার অস্বীকার ও জুলাই সনদ উপেক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রতারণার মুখোশ জাতির নিকট উন্মোচিত হতে থাকে। সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে জনগণ ভাবতে শুরু করেছে— তারা ভোটে না, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”

সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যবসায়ীদের সংকট:

সিলেটের স্থানীয় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মহানগর আমীর বলেন, সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি ও খুন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, এমনকি ছোট্ট শিশুরাও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়ীরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন এবং বড় আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে জামায়াত সবসময় পাশে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে জামায়াত জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “মানুষ ঠিকমতো দু‘মুঠো ভাত খেতে পারছে না, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কারণে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হলেও ইসলামী ব্যাংককে ডাকাতদের হাতে তুলে দিতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। এর মাধ্যমে তারা জনগণ নয়, ডাকাতদের সরকারে পরিণত হয়েছে।” দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

মিছিল ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:

সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোঃ আবদুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ আলিম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু ও জামায়াত নেতা মু. আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে মহানগর, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।



Leave a Comment