আজতেকায় কার্ডের ছড়াছড়ি: দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে মেক্সিকোর শুভসূচনা

জুন ১২, ২০২৬ | Feature-2 |

ক্রীড়া সম্পাদক: তিনটি লাল কার্ড ও তিনটি হলুদ কার্ড—সব মিলিয়ে মোট ছয়টি কার্ডের এক চরম নাটকীয় ও উত্তেজনাকর ম্যাচের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। মাঠের ভেতরে কার্ডের এমন মহড়া চললেও ফুটবলীয় লড়াইয়ে ম্যাচটি অবশ্য ছিল সম্পূর্ণ একপেশে। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।

খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল, আক্রমণ কিংবা অন-টার্গেট শট—সব বিভাগেই মেক্সিকানদের গতির সামনে পাত্তাই পায়নি আফ্রিকান পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা।

কুইনোনেসের লক্ষ্যভেদে শুরু:

ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর চেনা কন্ডিশনের পুরো সুবিধা তুলে নিয়ে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেক্সিকো। সাফল্য পেতেও একদম সময় নেয়নি স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ঠিক ৯ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তারকা ফরোয়ার্ড জুলিয়ান কুইনোনেস। প্রথম গোলটি হজম করার পর দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মেক্সিকো।

রাউলের ম্যাজিক ও মাঠের উত্তেজনা:

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে গিয়ে মেক্সিকোর কাউন্টার অ্যাটাকের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি (২-০) করেন। এই গোলটিই মূলত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেয় এবং স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করে।

রেকর্ড ৩টি লাল কার্ডের নাটক:

খেলার শেষ অর্ধে এসে ম্যাচটি রূপ নেয় চরম নাটকীয়তায়। দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে মৃদু হাতাহাতি ও ফাউলকে কেন্দ্র করে রেফারিকে একের পর এক কার্ড বের করতে হয়। ম্যাচে মোট ৩টি হলুদ কার্ডের পাশাপাশি দুই দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে রেফারিকে রেকর্ড ৩টি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে হয়। ফলে শেষ দিকে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় হারিয়ে দুই দলই ১০ জনের ও ৯ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের রাজসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।



Leave a Comment