তিউনিশিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল সুইডেন
ক্রীড়া প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে গ্রুপ ‘এফ’-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো গোলবন্যায় ভাসিয়ে দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সুইডেন। আজ সোমবার (১৫ জুন) মেক্সিকোর মন্টেরেই শহরের এস্তাদিও বিবিভিএ-তে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়াকে ৫–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে গ্রাহাম পটারের দল। এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে টানা পাঁচ আসরে অপরাজিত থাকার এক অনন্য কীর্তি গড়ল সুইডিশরা।
বাছাইপর্বের শঙ্কা উড়িয়ে মাঠের দাপট:
বিশ্বকাপ কোয়ালিফিকেশনের মূল পর্বে কোনো ম্যাচ না জিতলেও প্লে-অফ খেলে নাটকীয়ভাবে এবারের আসরে জায়গা করে নিয়েছিল সুইডেন। তবে আজ মেক্সিকোর মাটিতে প্রথম ম্যাচেই তারা প্রমাণ রাখল নিজেদের ফুটবলীয় শক্তির; যেন বিশ্বকে দেখিয়ে দিল কেন তাদের এই বিশ্বকাপে থাকা উচিত। ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিশিয়াকে চেপে ধরে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে সুইডিশরা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম ৩০ মিনিটেই দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা।
প্রথমার্ধেই আয়ারি ও ইসাকের গোল:
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটে তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক মোহিব চামাখ সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফের একটি লং বল ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারলে সেই সুযোগ লুফে নেন ইয়াসিন আয়ারি। ২৫ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে খালি জালে বল পাঠিয়ে সুইডেনকে ১-০ তে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় গোলটি আসে ৩০ মিনিটে, এক বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। ভিক্টর গিওকেরেসের চমৎকার পাস থেকে স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান।
তবে বিরতির ঠিক আগে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় তিউনিশিয়া। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে হামবিক মেজব্রির মাপা ক্রস থেকে ডিফেন্ডার ওমর রেকিক দারুণ এক হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন। এই স্কোরলাইনেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের গোল উৎসব ও বিশ্বরেকর্ড:
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিউনিশিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও ম্যাচের ৬০ মিনিটে তাদের কফিনেই শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় সুইডেন। তিউনিশিয়ার অধিনায়ক এলিয়েস স্কিরির এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন গিওকেরেস, এবং সহজেই দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচের শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান ম্যাটিয়াস সভানবার্গ। মাঠে নামার মাত্র ১২ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম বদলি গোলের (Fastest Substitute Goal) বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই সুইডিশ মিডফিল্ডার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) তিউনিশিয়ার রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন আয়ারি। ফলে ৫–১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রাহাম পটারের শিষ্যরা।
পরের ম্যাচে কঠিন সমীকরণ:
এই বিধ্বংসী জয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর পয়েন্ট টেবিলে রানরেটে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শক্ত অবস্থান তৈরি করল সুইডেন। তবে পটার বাহিনীর পরবর্তী ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। অন্যদিকে, তিউনিসিয়ার জন্য নকআউটের পথটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কখনোই জিততে না পারার চিরচেনা ব্যর্থতার ধারা বজায় রইল তাদের। পরবর্তী ম্যাচে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ এশিয়ার পরাশক্তি জাপান।