জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাক হাইকমিশনারের বৈঠক

জুন ১৮, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও সৌজন্য সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের মান্যবর হাইকমিশনার মি. ইমরান হায়দার এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর মি. কামরান দাংগাল। অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, শিক্ষা, সংসদীয় কূটনীতি ও মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও ইতিবাচক সম্পর্ক:

বৈঠকে পাকিস্তানের মান্যবর হাইকমিশনার জানান, ইসলামাবাদ ঢাকার সঙ্গে সম্পূর্ণ ‘ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নিতে গভীরভাবে আগ্রহী। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সাথে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক দ্বিপাক্ষিক সফরও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে দেশটির উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও শিক্ষা খাতের মূল মেগা এজেন্ডা:

১. ৫০০ শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ: পাকিস্তান আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন যোগ্য ছাত্রছাত্রীকে সম্পূর্ণ সরকারি বৃত্তিতে (স্কলারশিপ) উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করবে, যার মধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গিয়েছেন।

২. নলেজ করিডোর শক্তিশালীকরণ: দুই দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা ও গবেষণা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি সংহত ও কার্যকর করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

৩. সংসদীয় গ্রুপ গঠন: সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে দ্রুত একটি যৌথ ‘সংসদীয় গ্রুপ’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন হাইকমিশনার।

৪. শিক্ষা মেলার সাফল্য: গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা মেলার অভূতপূর্ব সাফল্য এবং বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহের বিষয়টিও এই বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়।

ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তিতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা:

আলোচনার এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে পাকিস্তানের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি মান্যবর হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। দুই দেশই আশা প্রকাশ করে যে, আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক বৈঠকে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।



Leave a Comment