শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: মেহেরপুরের বুড়িপোতার পর এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জন নাগরিককে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের (অনুপ্রবেশের) বড় ধরনের এক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির অনমনীয় মনোভাব ও তীব্র বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হলেও অনুপ্রবেশের জন্য আনা ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) ভারতীয় অংশে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে এই উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে পুশইন প্রতিহত করার এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
গভীর রাতের ছক ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ:
বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে শিবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই ২০ জনকে সুকৌশলে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে পুশইন করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ জোয়ানরা। তবে সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি টহল দলের তীব্র তৎপরতায় বিষয়টি দ্রুত ধরা পড়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে জিরো লাইনে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন।
বিজিবির এই অনড় অবস্থান দেখে স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে জোয়ানদের সাথে সীমান্তে প্রতিরোধ লাইনে শামিল হন। বিজিবি ও আমজনতার যৌথ প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের মাটিতে ঢোকাতে ব্যর্থ হয়। বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
একনজরে চৌকা সীমান্তের পুশইন পরিস্থিতি ও বর্তমান সমীকরণ:
ঘটনার সময় ও স্থান: ১৯ জুন (শুক্রবার) গভীর রাত; চৌকা সীমান্ত, শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
অনুপ্রবেশকারীদের বিবরণ: মোট ২০ জন নাগরিক। যার মধ্যে রয়েছে ১১ জন নারী, ৪ জন শিশু এবং ৫ জন পুরুষ। (তাদের পরিচয় বা জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি)।
বর্তমান অবস্থান: বিজিবির কঠোর বাধার মুখে তারা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখার (নো ম্যান্স ল্যান্ড) ভারতীয় অংশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
সীমান্তের পরিস্থিতি: এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে চৌকা সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিএসএফের পাল্টা চাপ মোকাবিলায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি সাধারণ মানুষও সীমান্তে পাহারা ও নজরদারি জোরদার করেছে।
বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী আজ সকালে বলেন, “বিজিবি টহল দলের সর্বোচ্চ তৎপরতা ও সাহসিকতার কারণে ২০ জনের এই পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে আমরা এখনই মূল সীমান্তে যাচ্ছি। সেখানে বিস্তারিত খতিয়ে দেখে পরে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে।” বিজিবি জানায়, দেশের এক ইঞ্চি মাটিতেও কাউকে অবৈধভাবে পা রাখতে দেওয়া হবে না।