হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু; নতুন আক্রান্ত ৮৮৭

June 20, 2026 | Feature-1 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৮৮৭ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে ৭৪৬টি শিশুকে।

আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পাঠানো ‘হাম-বিষয়ক বিশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে’ এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপসর্গে মৃত্যু ৭, তবে নিশ্চিত হামে শূন্য:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭টি শিশুই মূলত হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এই ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুর মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়নি। কিন্তু গত ১৫ মার্চ থেকে চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৭৭টি শিশুর। এর মধ্যে সরাসরি হাম নিশ্চিত হয়ে মারা গেছে ৯৩ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৮৪ শিশু।

একনজরে হাম প্রাদুর্ভাবের ভয়াল চিত্র ও সর্বশেষ পরিসংখ্যান:
গত ২৪ ঘণ্টার মৃত্যুর বিবরণ: হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু (নিশ্চিত হামে মৃত্যু শূন্য)।

গত ২৪ ঘণ্টার সংক্রমণ ও ভর্তি: নতুন আক্রান্ত ৮৮৭ শিশু (সরাসরি হামে ৮০ জন, হামের উপসর্গে ৮০৭ জন)। নতুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৭৪ জন।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সমীকরণ: হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু ৬৭৭ শিশুর। (হামে ৯৩ জন, উপসর্গে ৫৮৪ জন)।

সামগ্রিক সংক্রমণচিত্র (১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন): দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগী ৯১ হাজার ৭৮৯ জন, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৪৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯০২ জন এবং বাড়ি ফিরেছে ৭১ হাজার ৯৭০ জন।

হাসপাতালে রোগীর চাপ ও সুস্থতার হার:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ৭৫ হাজার ৯০২ জন রোগীর মধ্যে ৭১ হাজার ৯৭০ জন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ডেডিকেটেড সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হামের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশুর শরীরে র‍্যাশ বা অতিরিক্ত জ্বর দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে।



Leave a Comment