সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে

June 21, 2026 | Feature-2 |

আদালত প্রতিবেদক: মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (২১ ২১ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) রিয়াজ হোসেন রিমান্ড মঞ্জুরের এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

৭ দিনের আবেদনে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর:

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালতে দুদকের পক্ষে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম।

অপরদিকে সাবেক এই এমপি ও সেনা কর্মকর্তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের জোর আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আদালত উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

একনজরে সাবেক ডিজিএফআই প্রধানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার মূল বিবরণ:
আসামির পরিচয়: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি ও সাবেক ডিজিএফআই প্রধান। (গত ২২ মার্চ রাতে বারিধারা ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছিল)।

দুদকের মূল অভিযোগ: পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের লাইসেন্স বা এজেন্ট নিযুক্ত হওয়া।

আর্থিক জালিয়াতি: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা থাকলেও তা অমান্য করে শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায়।

আত্মসাৎ ও পাচারকৃত অর্থ: অবৈধভাবে বিভিন্ন ধাপে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত জল করা মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়, স্থানান্তর ও মানিলন্ডারিং (অর্থপাচার)।

প্রযোজ্য আইন: আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

শ্রমিকদের বুকফাটা অর্থ রূপান্তরের অভিযোগ:

দুদকের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়াগামী অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ছদ্মনাম ব্যবহার করে স্থানান্তর, রূপান্তর ও অবৈধ পন্থায় বিদেশে পাচার করা হয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পাচারকৃত অর্থের উৎস সন্ধানে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ বারিধারার বাসা থেকে আটকের পর সাবেক এই প্রভাবশালী জেনারেলকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারেই বন্দি ছিলেন, আজ দুদকের করা নতুন অর্থপাচার মামলায় তাকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে পেল সংস্থাটি।



Leave a Comment