মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় তাঁর দুই দিনের অত্যন্ত সফল ও ঐতিহাসিক প্রথম সরকারি সফর শেষ করে আজ বিকেলে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ত্যাগ করেছেন। চীন সফরের প্রথম ধাপে তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) উচ্চপর্যায়ের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন।
আজ সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স’ এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিমানবন্দর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্ধরে উষ্ণ বিদায়:
ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক ও উষ্ণ বিদায় জানান মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে দেশটির ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা।
একনজরে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও মালয়েশিয়া ডায়েরি:
চীন সফরের প্রথম ধাপ (দালিয়ান): দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং সেখানে দুই দিন অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন।
চীন সফরের মূল ধাপ (বেইজিং): দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। বেইজিংয়েই চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল হাইপ্রোফাইল কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম বিদেশ সফর সম্পন্ন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
মালয়েশিয়া সফরের অর্জন: অত্যন্ত স্বল্পসময়ের এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতার মধ্যে প্রথমে একান্ত (ওয়ান-টু-ওয়ান), পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে এবং সবশেষে দ্বিপাক্ষিক প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়।
কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতিশীলতা:
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সফরে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে কুয়ালালামপুরের সাথে ঐতিহাসিক ঐকমত্যে পৌঁছেছে ঢাকা। পাশাপাশি অবৈধ বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের বৈধকরণ এবং আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর হয়ে চীনের দালিয়ান ও বেইজিং সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।