সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

June 23, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগর এলাকায় অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি এবং তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

গতকাল সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর:

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির বিপদসংকুল চ্যানেল পার হওয়ার পর বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফুজাইরাহ বন্দরে যাত্রা বিরতি ও জ্বালানি সংগ্রহ শেষে জাহাজটির পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৈশ্বিক জাহাজের অবস্থান নির্দেশক ওয়েবসাইট ‘ভেসেল ফাইন্ডার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে জাহাজটি ইরানের কেশম দ্বীপ ও ওমানের বন্দর শহর খাসাবের মধ্যবর্তী অংশে হেনগাম দ্বীপের সমান্তরালে অবস্থান করছিল, তখন এর গতি ছিল ৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল। এরপর রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গতি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইলে হেনগাম দ্বীপ অংশ অতিক্রম করে ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে যায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

একনজরে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবরুদ্ধ হওয়া ও মুক্তির ঘটনাপঞ্জি:
জাহাজের মালিকানা: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।

আটকে পড়ার সময়কাল: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা শুরু হলে এটি পারস্য উপসাগরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস জাহাজটি সেখানে আটকে ছিল।

নাবিকদের অবস্থা: জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে তারা সবাই নিরাপদ আছেন।

মুক্তির নেপথ্য কারণ: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি সই হওয়ার পর অবরুদ্ধ অবস্থা কাটার পথ সুগম হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর আনুষ্ঠানিক অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। অনুমতি মেলার পরই সোমবার মধ্যরাতে এটি হরমুজ প্রণালি পার হয়।

একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল অতীতে:
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, গত সাড়ে তিন মাসে পারস্য উপসাগরের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে নিরাপদ প্রণালি পাড়ি দেওয়ানোর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকবার জাহাজটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধজাহাজ ও চ্যানেলের কাছাকাছি অবস্থান নিলেও সামরিক ঝুঁকি ও গোলযোগের কারণে তা সফল হয়নি। অবশেষে দুই দেশের রাজনৈতিক চুক্তির সুফল হিসেবে মুক্ত বাতাসে ওমান উপসাগরের দিকে রওনা দিতে পারল বাংলাদেশি এই পতাকাবাহী জাহাজ।



Leave a Comment