নওগাঁর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির কড়া প্রতিরোধ; বিএসএফের পুশইন মিশন আবারও ব্যর্থ

June 25, 2026 | Feature-2 |

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোরপূর্বক পুশইন (অনুপ্রবেশ) করার চেষ্টা চালিয়ে তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির অনড় অবস্থান ও স্থানীয় জনগণের কড়া পাহারার পর অবশেষে বুধবার দিনগত রাতের কোনো এক সময়ে শূন্যরেখায় আটকে পড়া ওই ৯ ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভোররাতে পুশইনের চেষ্টা, দিনভর মানবেতর পরিস্থিতি:

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার ভোর ৪টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার ২৪৪/এমপি নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু ছিল। খবর পাওয়ার পরপরই আদাতলা ক্যাম্পের বিজিবির একটি শক্তিশালী টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইন প্রতিরোধ করে।

ফলে ওই ৯ ব্যক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের নোম্যান্স ল্যান্ড বা শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। জুন মাসের তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনো খাবার ও আশ্রয় ছাড়াই চরম দুর্বিষহ ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় ওই ৩ শিশুসহ ৯ জনকে।

একনজরে চলতি জুনে নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের ৩টি পুশইন মিশন ও বিজিবির প্রতিরোধ:
চলতি জুন ২০২৬ মাসে নওগাঁর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধে প্রতিটি মিশনই ব্যর্থ হয়েছে:

তারিখআক্রান্ত সীমান্ত এলাকাপুশইনের বিবরণ ও বিজিবির ভূমিকা
৫ জুনকলমুডাঙ্গা সীমান্ত (সাপাহার উপজেলা)বিএসএফের প্রথম পুশইন চেষ্টা; বিজিবির বাধায় ব্যর্থ।
৮ জুননিতপুর সীমান্ত (পোরশা উপজেলা)দ্বিতীয় দফায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা; বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ।
২৪ জুনআদাতলা সীমান্ত (সাপাহার উপজেলা)৩ পুরুষ, ৩ নারী ও ৩ শিশুসহ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা; বিজিবির অনড় অবস্থানে রাতে ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

বৈঠক এড়াল বিএসএফ, রাতের আঁধারে প্রত্যাহার:
বিজিবি জানায়, নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে পড়া ৯ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার বেলা ১২টার দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যায় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো হলেও বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি। ফলে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

সার্চলাইট বন্ধ করে রহস্যময় পরিবেশ:

আদাতলা সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারায় বসে। সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের সীমান্তের তিনটি শক্তিশালী সার্চলাইট হঠাৎ বন্ধ করে দিলে পুরো এলাকায় একটি ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাত ১০টার পর বিএসএফ পুনরায় সার্চলাইট অন করলে দেখা যায় নোম্যান্স ল্যান্ডে ওই ৯ জন আর নেই।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “আজ সকাল থেকে নোম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশে ওই ৯ জনকে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ বুধবার গভীর রাতে তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”



Leave a Comment