ইতালিতে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে নৃশংস হত্যা

June 27, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোমে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে ঘরের ভেতর ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী গৃহকর্তা কামাল উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাঁদের মাত্র ৬ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিসিয়া। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতে ঘরের ভেতর ঢুকে একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো দেশে গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক নেমে এসেছে।

ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘আনসা’ (ANSA) এবং স্থানীয় রোমান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি (Pineta Sacchetti) সংলগ্ন ‘ভিয়া মন্তিলিও’ সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের ভেতরে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

একনজরে রোমে বাংলাদেশি পরিবারের ওপর হামলা ও হতাহতের বিবরণ:
রোমের আবাসিক ফ্ল্যাটে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

ঘটনাস্থল ও সময়: ইতালির রোম শহরের ভিয়া মন্তিলিও সড়ক (পিনেতা সাচেত্তি এলাকা); ২৬ জুন (শুক্রবার) রাতে।

নিহতদের পরিচয়:
১. কামাল উদ্দিন (৩৯): প্রবাসী গৃহকর্তা, গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটে।
২. আরজু (৩৮): কামাল উদ্দিনের স্ত্রী।
৩. আলিসিয়া (৬): কামাল-আরজু দম্পতির ছোট কন্যাসন্তান।

অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সদস্য: অনিয়ন (১৮- কামাল-আরজু দম্পতির বড় ছেলে)। মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তবে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

তদন্তের মূল ক্লু: ঘরের প্রধান দরজা বা জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কোনো চিহ্ন মেলেনি।

অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন ১৮ বছরের বড় ছেলে:
ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা গেলেও এই ভয়াবহ ও খুনে সহিংসতা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন কামাল-আরজু দম্পতির ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে অনিয়ন। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অনিয়নের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকলেও দীর্ঘ অস্ত্রোপচার শেষে বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ঘাতক পূর্বপরিচিত, দরজায় ছিল না ভাঙচুরের চিহ্ন:

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতককে দ্রুত গ্রেফতার করতে রোম পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (Detective Branch) এবং ফরেনসিক টিম মাঠে নেমেছে। পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘাতক কোনো বহিরাগত বা অপরিচিত ডাকাত দল নয়, বরং এই বাংলাদেশি পরিবারের অত্যন্ত পূর্বপরিচিত বা ঘনিষ্ঠ কেউ। কারণ, ফ্ল্যাটের মূল দরজা বা জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কোনো লক্ষণ বা জোরপূর্বক ভাঙচুরের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। পরিচিত কেউ আসার পরই দরজা খোলা হয়েছিল এবং একপর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত কামাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বসুরহাটে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে বৈধভাবে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। রোমে তাঁর পরিচিত ও ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখছে এবং ইতালীয় পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।



Leave a Comment