জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক বাজেট কণ্ঠভোটে পাস

June 30, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট কণ্ঠভোটে চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে এই বাজেট অনুমোদিত হয়। নতুন এই বাজেটে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে (৬.৫%) উন্নীত করা এবং সাধারণ মানুষের প্রধান সংকট মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে (৭.৫%) নামিয়ে আনার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার।

পাস হওয়া এই বাজেটের আকার চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের মূল বাজেট থেকে ১৯ শতাংশ বেশি। সামগ্রিক বাজেটের এই বিশাল আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) ১৩.৭ শতাংশ।

একনজরে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এর মূল সূচক ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহ:
নতুন অর্থবছরের আয়, ব্যয়, ঘাটতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সূচকসমূহনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও আর্থিক পরিমাণজিডিপির (GDP) শতাংশ বা প্রবৃদ্ধি
বাজেটের সামগ্রিক আকার (ব্যয়)৯,৩৮,০০০ কোটি টাকাজিডিপির ১৩.৭% (চলতি বছর থেকে ১৯% বড়)
মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য (আয়)৬,৯৫,০০০ কোটি টাকাএনবিআর (NBR) একাই তুলবে ৬,০৪,০০০ কোটি
সার্বিক বাজেট ঘাটতি২,৪৩,০০০ কোটি টাকাজিডিপির ৩.৬%
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাসাড়ে ৬ শতাংশ (৬.৫%)
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রাসাড়ে ৭ শতাংশে (৭.৫%) নামানো
১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি৩ বছর মেয়াদি বিশেষ রোডম্যাপঅর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কাঠামোগত পুনর্গঠন

ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ ও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের রোডম্যাপ:
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় বরাদ্দের বিপরীতে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দেওয়া বেশ কিছু ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর আগে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো ও টিআইএন (TIN) বাধ্যবাধকতা শিথিল করার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ ‘অর্থবিল ২০২৬’ পাস হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে দ্রুততম সময়ে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার একটি তিন বছর মেয়াদি বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই রোডম্যাপের আওতায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সামষ্টিক স্থায়িত্ব এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠনের কাজ করবে বর্তমান সরকার।

অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ:

নতুন অর্থবছরটি শুরু হতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রেকর্ড ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, কর কাঠামো সহজীকরণ এবং টিআইএন শিথিল করায় রাজস্বের পরিধি বাড়বে। ৩.৬ শতাংশের নিয়ন্ত্রিত বাজেট ঘাটতি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন।



Leave a Comment