জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষের অভিযোগ: শাওন, মাহি ও শান্তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ডায়েরি

July 4, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে কটাক্ষ ও অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সুপরিচিত অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি অধিকার রক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের তিনজন পদধারী শীর্ষ সদস্য থানায় উপস্থিত হয়ে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্রটি জমা দেন। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে শাহবাগ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি অধ্যায়, যেখানে শত শত তরুণের বুকের তাজা রক্ত এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মতো মহান আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সম্প্রতি কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও বিনোদন জগতের তারকা এই ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট গৌরবোজ্জ্বল ঘটনাগুলোকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ এবং অবমাননাকর আঘাত করতে দেখা গেছে, যা দেশের সচেতন নাগরিকদের অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে, দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তাঁর সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকার না করে এটিকে একটি ‘পরিকল্পিত বা সাজানো নাটক’ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়া চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধেও আন্দোলনের মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করার মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা এবং এর মাধ্যমে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতাধীন ধারা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Leave a Comment