আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষযাত্রায় তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল

July 6, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানের রাজপথে লাখো শোকাহত মানুষের এক অভূতপূর্ব সমাগম ও জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে এই বিশাল শোকযাত্রা শুরু হয়। এর আগে প্রয়াত এই সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ গত দুই দিন ধরে ওই কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়েছিল, যেখানে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক অশ্রুসজল চোখে তাদের প্রিয় নেতাকে বিদায় জানান। ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই ঐতিহাসিক শোকযাত্রাটি রাজধানী তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করবে। দীর্ঘ এই শোকযাত্রার নির্ধারিত রুটের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হোসেইন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি বা ফ্রিডম স্ট্রিট এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত শহীদ লাশগারি মহাসড়ক।

এর আগে গতকাল রবিবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। ইরানের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, তাঁর জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি-গোলপায়েগানি এবং সাইয়্যেদেহ বুশরা হোসেইনি-খামেনির জানাজার নামাজে প্রধান ইমাম হিসেবে ইমামতি করেন। এর আগে গত শুক্রবার রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান, তুরস্ক ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তাসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল তেহরানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক প্রকাশ করেন।

তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ আগামীকাল মঙ্গলবার ইরানের ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী বুধবার প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র নাজাফ নগরীতে অবস্থিত আমিরুল মুমিনিন ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজার শরিফ এবং ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসেইন (আ.) ও হজরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজারে এই শোকযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ ইচ্ছা ও অসিয়ত অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত অষ্টম ইমাম হযরত রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় পূর্ণ মর্যাদায় চিরনিদ্রায় দাফন করা হবে। খামেনির এই মহাপ্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।



Leave a Comment