গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান ও মূল সংকট হলো গণভোটের রায় যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়া। এই সংকট যদি দ্রুত নিরসন করা না হয়, তবে তা দেশের রাজনীতিকে আবারও গভীর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউস্থ জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনের সামনের সড়কে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিগত আন্দোলনে সংঘটিত সকল গণহত্যার বিচারের দাবিতে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্য, পঙ্গুত্ববরণকারী, আহত ও বীর যোদ্ধাদের নিয়ে এই মানব কর্মসূচি পালিত হয়। ঐতিহাসিক এই মানববন্ধনের আগে শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া এমপিসহ পাঁচজন নারী সংসদ সদস্য এবং ১১ দলের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি জরুরি স্মারকলিপি জমা দেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে বৈঠকের বিষয়টি মানববন্ধনে উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা মাননীয় স্পিকারকে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশের অভিভাবক হিসেবে তিনি যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা উভয়কে সাথে নিয়ে গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ ভাগ সাধারণ জনগণের দেওয়া রায়ের আইনি বাস্তবায়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। স্পিকার তাঁদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন এবং নিজে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকেও এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিশদ আলোচনা করবেন বলে ১১ দলের নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁরা আশা করছেন সরকার তাদের পেশ করা স্মারকলিপিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেবে। জনগণের ন্যায্য প্রত্যাশা ও রায় পূরণ না করে শুধু পার্লামেন্ট চালাবেন, দেশের সাধারণ জনগণ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় বসে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে চলার দিন শেষ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে দেশে আরও একটি জুলাই বিপ্লব ঘটানো হবে, তবুও দাবি আদায় না করে কেউ রাজপথ ছাড়বে না।
উক্ত মানববন্ধনে নিজেদের হারানো স্বজনদের স্মৃতি চারণ করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ও জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব জনাব আখতার হোসেন এমপি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ অন্যতম। এ ছাড়াও জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব মিনার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজ হোসাইন, ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, জাগপার ঢাকা মহানগরীর সভাপতি আসাদুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং প্রচার সেক্রেটারি জনাব আতাউর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী রাজপথের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।