ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: তদন্তের দাবি তুলল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

July 8, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের জোর দাবি তুলেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপ ফুটবলে ফিফা প্রেসিডেন্টের রহস্যজনক ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা এই বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ইতিমধ্যে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ফিফার এই স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক ও নজিরবিহীন আচরণের বিরুদ্ধে ইউরোপের ফুটবল ফেডারেশনগুলো যেন এখনই একজোট হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের চিরন্তন স্বচ্ছতা, সততা ও নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে ইউরোপের দেশগুলোর এখনই উপযুক্ত সময় ফিফার কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করার এবং মার্কিন ফুটবলার বালোগানের লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলার।

ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই বিতর্কের নেপথ্যে মূলত গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাচের ঘটনা জড়িত রয়েছে। ওই গুরুত্বপূর্ণ খেলায় মার্কিন তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিষিদ্ধ হন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞাকে চরম ‘অন্যায়’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র দাবি তোলেন। এরপরই সবাইকে চমকে দিয়ে ফিফা এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে রাতারাতি বালোগানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ঘোষণা করে। এই ঘটনার পরপরই গুঞ্জন ওঠে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে সরাসরি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন এবং ‘একটি বিশাল অন্যায়ের অবসান ঘটানোর জন্য’ ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস ও ফিফা প্রধানের মধ্যকার এই ফোনালাপের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তা ফিফার স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ফিফার এমন নজিরবিহীন ও একপেশে সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) এই ঘটনার তীব্র ও কড়া ভাষায় সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি ফুটবল ইতিহাসের একটি নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ঘটনা, যা খেলার মূল চেতনাকে ধ্বংস করে। উল্লেখ্য, চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একাধিক ম্যাচে ফিফা কর্তৃপক্ষ এবং রেফারিদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দফায় দফায় বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, রেফারি বিতর্কের সেসব গুরুতর অভিযোগসহ ফুটবলের আন্তর্জাতিক ফলাফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ, স্পন্সর ইস্যু এবং পর্দার আড়ালের নানাবিধ গোপন সমঝোতার বিষয়গুলো এবার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।



Leave a Comment