আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ ইরাকে: নাজাফে জানাজা সম্পন্ন, কারবালায় শোকযাত্রা ও দেশটিতে সরকারি ছুটি

July 8, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ রাষ্ট্রীয় শোক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে এসে পৌঁছেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির কফিন এসে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহবাহী বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পরই সেখানে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ শিয়া মুসলিম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে আয়াতুল্লাহ খামেনির আরেক দফা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, আজ বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ ও ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী কারবালায় আয়োজিত বিশেষ জানাজার অনুষ্ঠানে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে, যেখানে খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আশা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইরাকের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে খামেনি একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও পরম শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে আজ বুধবার সমগ্র ইরাকজুড়ে সাধারণ ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সে দেশের সরকার।

এদিকে খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই গতকাল গভীর রাতেই বিমানবন্দরের সংযোগ সড়ক ও আশপাশের রাজপথে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন ইরাকের হাজার হাজার সাধারণ জনতা। প্রিয় নেতার মৃত্যুর শোকে তাঁদের অনেককে বুকে হাত চাপড়ে ও কান্নায় ভেঙে পড়ে মাতম করতে দেখা যায়। এর আগে, গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড স্কয়ারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রথম জানাজা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, তেহরানের সেই প্রথম জানাজার নামাজে ইমামতি করেছিলেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ ও বর্ষীয়ান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। শোকাবহ সেই জানাজায় খামেনির পাশাপাশি একই দুর্ঘটনায় নিহত তাঁর জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, মেয়ে জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, মাত্র ১৪ মাস বয়সী অবুঝ নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং নিকটাত্মীয় সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনিরও যৌথ জানাজা একযোগে সম্পন্ন হয়।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ প্রথমে নাজাফে অবস্থিত ইসলামের প্রথম খলিফা ও শিয়া সম্প্রদায়ের প্রথম ইমাম হযরত আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখান থেকে ভক্ত ও অনুসারীদের বিশাল বহর নিয়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে, যেখানে ইমাম হুসাইন (আ.) ও হযরত আব্বাসের (আ.) পবিত্র মাজারে তাঁর কফিন রেখে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। ইরাকে সকল আনুষ্ঠানিকতা ও শিয়া মুসলমানদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করার পর খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেজার (আ.) পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত ও দাফন করা হবে ইসলামের এই প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে।



Leave a Comment