নীলফামারীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেওয়ালে বরযাত্রীবাহী গাড়ি: পরীক্ষার্থীসহ নিহত ২, আহত ১২

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বরযাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এতে সাত মাস বয়সী এক শিশু এবং এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বরসহ আরও অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সালটিবাড়ী ঈদগাহ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।

নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—নীলফামারী জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী শিশুসন্তান জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে ও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর মোরসালিনসহ বাকি ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈদগাহের দেওয়ালে ধাক্কা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরসালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে শেষে রাতে বরযাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি কচুকাটায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পথিমধ্যে সালটিবাড়ী ঈদগাহ এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে থাকা ঈদগাহ ময়দানের ইটের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা সবাই কম-বেশি হতাহত হন।

চিকিৎসকদের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, মধ্যরাতে ১৪ জনকে অত্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়, আমরা তাদের মৃত ঘোষণা করি। বাকি ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতরা বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



Leave a Comment