অবৈধ ভিওআইপির দায়ে গ্রামীণফোনকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বিটিআরসির

July 25, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে আবারও অবৈধ ভিওআইপি (VOIP) কারবারে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আইন ও লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার এই অর্থ পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে নিয়ামক সংস্থাটি।

শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ
বিটিআরসির পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কে অবৈধ কল প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক ‘সেলফ-রেগুলেটরি প্রসেস’ এবং ‘টেলিকম ফ্রড ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস গাইডলাইন এবং অপারেটরের লাইসেন্সের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত ভঙ্গ করেছে।

উদ্ধার হওয়া সিমের ভিত্তিতে জরিমানা
সম্প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিম জব্দ করা হয়:

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা: অভিযানে ১৬৪টি সক্রিয় সিম উদ্ধার।

চট্টগ্রামের হালিশহর থানা: অভিযানে আরও ২০টি সিম উদ্ধার।

উদ্ধার হওয়া মোট ১৮৪টি সিমের মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপি কল পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি অবৈধ সিমের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা হারে মোট ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা হিসাব করা হয়েছে।

বারবার একই অপরাধে গ্রামীণফোন
গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপিতে যুক্ত থাকার বা তা প্রতিরোধ করতে না পারার ইতিহাস নতুন নয়। বিটিআরসির নথি অনুযায়ী:

২০২৩ সাল: এক যৌথ অভিযানে গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৬৪০টি অবৈধ সিম উদ্ধার করা হয়।

২০২২ সাল: অবৈধ ভিওআইপি পরিচালনার দায়ে তাদের ৯৯ লাখ ৬২৫ টাকা জরিমানা করে বিটিআরসি।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল: অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে তৎকালীন সময়ে গ্রামীণফোনকে ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

বারবার জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও অবৈধ ভিওআইপি প্রতিরোধে অপারেটরটির গাফিলতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।



Leave a Comment