আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আসছেন: ড. মাহদী আমিন
বিশেষ প্রতিবেদক: আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও মার্কিন সমর্থন
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার যে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি অব্যাহত সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে জোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি ও বন্দর ২৫ ঘণ্টা চালু রাখার পরিকল্পনা
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগ এবং দেশের সংকটপূর্ণ জ্বালানি খাতের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, বিগত সময়ের অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গতিশীল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “পণ্য পরিবহন ও খালাসের সময় এবং খরচ কমাতে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে খুব শিগগিরই এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে, যা বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”
দেশীয় ব্যবসায়ীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
একই দিনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানান উপদেষ্টা। ওই বৈঠকে স্থানীয় বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ড. মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দেশীয় বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণে দেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল হয়ে উঠবে।”