নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫, গ্রাম ও সড়ক তছনছ

August 27, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল এবং চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের (Flash Flood) তাণ্ডবে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাসমূহের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে ১৬২ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে ৩ জনসহ মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬৫ জনে পৌঁছেছে।

তিব্বত থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির প্রবল তোড়ে মহাসড়ক, ব্রিজ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বহু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও ক্ষয়ক্ষতি

নিহতের মোট সংখ্যা: নেপাল পুলিশ বুধবারে নিশ্চিত করেছে তারা ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে তিব্বতের জিরোং (Gyirong) কাউন্টিতে আরও অন্তত ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চীন কর্তৃপক্ষ।

নিখোঁজ দেশি-বিদেশি নাগরিক: নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ৫৭৯ জন পর্যটক (যার মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি) এবং ২৮ জন নেপালি পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সরকারের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল CCTV-র তথ্যানুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

আক্রান্ত দেশসমূহের নাগরিক: নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সরকারি পদক্ষেপ

জরুরি সরকারি সাহায্য: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে জাতীয় সংস্থাসমূহকে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতিসংঘ, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে emergency ত্রাণ হিসেবে ৫ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।



Leave a Comment