রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ ৪ সদস্যকে শ্বাসরোধেই হত্যা; ধর্ষণের আলামত মেলেনি: পুলিশ

August 27, 2026 | Feature-2 |

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

হত্যার কারণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তি

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার কর্তৃক উপস্থাপিত মামলার বিস্তারিত তথ্য:

হত্যার মূল কারণ: মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামের দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ওই পরিবারের চার সদস্যকেই শ্বাসরোধে হত্যা করে।

শ্মশানের পাহারাদারের জবানবন্দি: দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ দাস শ্মশানে আশ্রয় নেয় এবং তার কাছে পানি চেয়ে স্বীকার করে যে—সে এবং সিদ্ধার্থ মিলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা করেছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের কোণ: অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে গণপতি চক্রবর্তী জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। জমি বিক্রির টাকা পরিবারের সদস্যদের মাঝে আনুপাতিক হারে ভাগাভাগি না হওয়ায় এবং বেশি দামে জমি বিক্রি নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল কি না, সেটিও পুলিশি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধর্ষণের গুজব ও ময়নাতদন্তের ব্যাখ্যা

ময়নাতদন্তের টেকনিক্যাল রিপোর্ট ও পুলিশের বক্তব্য:

ধর্ষণের আলামত অমূলক: নিহত নারী ভিকটিম আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সংগৃহীত ‘ভ্যাজাইনাল সোয়াব’ পরীক্ষার প্রতিবেদনে কোনো ধরনের ধর্ষণের আলামত মেলেনি।

বীর্য সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসন: গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হলে মানবদেহের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মলমূত্র বা বীর্য বের হয়ে আসতে পারে। ডোম যে বীর্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তা নিহত ব্যক্তির শরীরের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন পুলিশ কমিশনার।



Leave a Comment