নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৫২; নিখোঁজ ১৪ শতাধিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও তুষার-কাদার স্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় (Flash Flood) নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির (AFP) বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেবল নেপাল সীমান্তেই এ পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তিব্বত অংশে নতুন করে আরও ৫ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে। এর ফলে উভয় সীমান্ত মিলিয়ে সর্বমোট প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত ৫৫২ জনে পৌঁছেছে।
ক্ষ ক্ষয়ক্ষতি, বিদেশি নাগরিক ও ভারত সীমান্তে ভাসমান মরদেহ
দুর্যোগের মাত্রা ও প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র:
বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ: বর্তমানে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কাদা ও বরফের স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ভারতে মরদেহ উদ্ধার: ভারতের সীমান্ত এলাকার নদীগুলো থেকে রহস্যজনকভাবে ভেসে আসা ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃতরা নেপালের এই আকস্মিক বন্যারই শিকার বলে ধারণা করা হলেও চূড়ান্ত পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহ নেপালের মূল নিহতের হিসেব থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।
ইউএসজিএস (USGS)-এর মন্তব্য ও উদ্ধার অভিযান
দুর্যোগের ধরণ ও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ:
২০১৫ পরবর্তী সবচেয়ে বড় বিপর্যয়: যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ২০১৫ সালের সেই বিধ্বংসী ভূকম্পনের পর নেপালের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী বিপর্যয়। পাহাড়ের উঁচুতে বিশাল একটি হিমবাহ ধসে পড়ে পাথর ও বরফের মিশ্রণে ভয়াবহ কাদা-পানির তোড় সৃষ্টি হওয়ায় এই বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সামরিক অভিযান: পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বহু গ্রাম, ঘরবাড়ি ও মহাসড়ক সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়া দুর্গতদের অনুসন্ধানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বহুলসংখ্যক সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বড় আকারের সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।