জিম্বাবুয়েতে ট্রাক ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২৭ পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জিম্বাবুয়েতে একটি দ্রুতগামী পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মিনিবাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। একটি বার্ষিক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তারা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দেশটির পুলিশ বিভাগ সংবাদমাধ্যমকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও ঘটনাস্থলের চিত্র

পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী ঘটনার বিস্তারিত:

ওভারটেক করতে গিয়ে সংঘর্ষ: জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘শিভু’ এলাকার কাছে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। একটি বিদেশি নিবন্ধিত পণ্যবাহী ট্রাক সামনের অন্য একটি গাড়িকে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মিনিবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

বাসে আগুন ও কঙ্কালে রূপান্তর: সংঘর্ষের পরপরই মিনিবাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসির (ZBC) প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে মিনিবাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে একটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

আহত ও হতাহতের সংখ্যা: দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ২৭ জন পুণ্যার্থী মারা যান। এছাড়া আরও অন্তত ৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উভয় যানবাহনে ঠিক কতজন যাত্রী सवार ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জিম্বাবুয়েতে অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনা

দেশটিতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ও অবকাঠামোগত বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরা হলো:

যোগাযোগ ব্যবস্থার অবক্ষয়: জিম্বাবুয়েতে মহাসড়কগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমবি’ সার্ভিস: জিম্বাবুয়ের সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন চলাচলের জন্য ‘কমবি’ (Combi) নামে পরিচিত যেসব মিনিবাস ট্যাক্সি ব্যবহার করেন, সেগুলোতে প্রায়ই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রাণহানি: এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও দেশটির একটি প্রধান মহাসড়কে একইভাবে মিনিবাসে আগুন ধরে ১৮ জন নিহত হন। একই মাসে অপর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের মা ও তাঁর পাঁচ সন্তানের করুণ মৃত্যু ঘটেছিল।



Leave a Comment