নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১; নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতে ভয়াবহ হিমবাহ ধস, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩,০০০ জনেরও বেশি মানুষ। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাদা ও বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে লাশ উদ্ধারের কাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল পর্যন্ত সংগৃহীত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভোতে-কোশি নদীতে বাড়ছে পানি ও নতুন বন্যার ভয়াবহতা
দুর্যোগের ভয়াবহতার মাঝেই নেপালে তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা:
ভোতে-কোশি নদীর পানি বৃদ্ধি: পাহাড়ি ঢলের তোড়ে দেশটির অন্যতম প্রধান নদী ‘ভোতে-কোশি’র (Bhote-Koshi River) পানি প্রতি মুহূর্তেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী অধিবাসীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার সংকট: একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা পড়ে আছেন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিক। উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্ধার সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে কাঠমান্ডু।
নেপাল অংশের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর বিশেষ ঘোষণা
নেপালের বর্তমান চিত্র ও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ:
৬৭৫ মরদেহ উদ্ধার ও সাড়ে চার হাজার জীবিত: শুধু নেপাল ভূখণ্ড থেকেই এ পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কাটিয়ে উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৫০ জন বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
ডিএনএ (DNA) সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত: উদ্ধার হওয়া সিংহভাগ মরদেহের মুখমণ্ডল ও শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তকরণে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘোষণা দিয়েছেন, সৎকার বা দাফনের পূর্বে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে।
তিব্বত অংশ ও সীমান্তজুড়ে ধ্বংসলীলা
হিমালয়ের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে দুর্যোগের ভয়াবহ প্রভাব:
তিব্বতে ১৬ মৃত্যু ও সাড়ে ৫০০ নিখোঁজ: চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এবং সেখানে এখনও সাড়ে ৫০০-র বেশি অধিবাসী ও পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
অবকাঠামো ধস: নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বন্যার সাথে বিশালাকার কাদা ও বরফের উপচে পড়া স্রোত নেমে এসে সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন ও বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। ভাঙাচোরা পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকারী ভারী যান চলাচলে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।