নেপাল-চীনে হিমবাহ ধস, নিহত বেড়ে ৮০০

August 31, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে গত বুধবারের ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল এবং তিব্বত (চীন) মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ৮০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জনেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে নতুন করে পানির স্তর বাড়ায় দুর্গত জেলাগুলোতে পুনরায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সূত্রে এ হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভোতেকোশি নদীতে ফের বন্যার আশঙ্কা ও জনজীবনে আতঙ্ক

নেপাল ও সীমান্ত অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি:

চীনের সতর্কবার্তা: নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে নদীর পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার বিষয়টি চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে নিশ্চিত করার পরই নতুন করে বন্যাকবলিত অঞ্চলে হাই-অ্যালার্ট বা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের চরম আতঙ্ক: বারবার বন্যার সতর্কবার্তায় বিপর্যস্ত মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। ধাদিং ও ভোতেকোশি সংলগ্ন এলাকার অধিবাসীরা স্বজনদের নিয়ে বারবার উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে গিয়ে চরম শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

হতাহতের মোট হিসাব ও নিখোঁজ বিদেশি পর্যটক

দুর্যোগের ৫ দিনে নেপাল ও তিব্বত পুলিশ প্রকাশিত মৃত্যুর মোট চিত্র:

নেপাল অংশ: নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২,৫০২ জন।

তিব্বত (চীন) অংশ: সীমান্তের চীনা অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন।

বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়া: মোট ৩,০৪৮ জন নিখোঁজ মানুষের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের কয়েক শত নাগরিক রয়েছেন। তাঁরা মূলত পর্বতারোহণ, ট্রেকিং এবং কৈলাস শৃঙ্গে তীর্থযাত্রার জন্য এসেছিলেন। তিব্বতেই ২৬১ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি নাগরিক।

অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়

উদ্ধার অভিযান ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজের সর্বশেষ অবস্থা:

পৃথ্বী মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন: রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘পৃথ্বী মহাসড়ক’-এর বেশির ভাগ অংশ চালু করা সম্ভব হলেও কয়েকটি স্থান ও বেশ কিছু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ধ্বসে পড়ায় বহু জনপদ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন: মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত একটি মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, খুঁটি ও তার কাদায় জট পাকিয়ে পেঁচিয়ে আছে। ফলে ৪টি জেলার অন্তত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

দুর্যোগের কারণ ও বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপ:

হিমবাহ ধসের কারণ: বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি প্রাচীন হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়ার সময় বিশাল হিমবাহের অংশও সাথে ভেঙে পড়ে। এই পাথর ও গলিত পানি হঠাৎ নিচের নদীগুলোকে ফুলিয়ে মারাত্মক আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জলন্ত প্রমাণ: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র ০.১ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে তাঁদের।

মালয়েশিয়ার সহায়তা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, নেপালে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষায়িত ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ দল পাঠানো হচ্ছে। সেই সাথে নেপালকে ১০ লাখ ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।



Leave a Comment