নেপালে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,১২৭ পার
নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত ভূমিধসে হিমালয়কন্যা নেপালে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ জনে। এছাড়া এখনো অন্তত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়।
উদ্ধার অভিযান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতার সার্বিক বিবরণ:
বিশাল উদ্ধারকারী দল: উদ্ধার অভিযানে নেপালের সশস্ত্র সেনাবাহিনী ও পুলিশের ১০ হাজারের বেশি সদস্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক দল গঠন: নেপালকে সহায়তায় প্রতিবেশ ভারত ও চীনসহ বিশ্ব সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ উদ্ধারকারীরা এসে সেনা-পুলিশের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে সরাসরি যোগ দিয়েছেন।
ত্রাণ বিতরণ: নিখোঁজদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজের পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও বিকল্প উপায়ে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো হচ্ছে।
ভৌত অবকাঠামো ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য:
সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবকাঠামো: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অন্তত ৩০০টি আবাসিক ও সরকারি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে মাটি ও কাদায় মিশে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: ভূমিধসের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকার প্রধান মহাসড়ক, সেতু এবং স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সময়সীমা: উদ্ধার কার্যক্রম শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করে দেশের সার্বিক জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিকভাবে অন্তত ৩ মাস বা ৯০০ দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।