নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণহানি ১,২৪৩ পার; নিখোঁজ সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ

September 3, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৩ জনে। এর মধ্যে এককভাবে কেবল নেপালেই প্রাণহানি ঘটেছে ১ হাজার ২২২ জনের। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পার হলেও হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাহিনীর চিরুনি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপালের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের চিত্র

নেপাল পুলিশ ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা: প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে বর্তমানে নেপালে ৪ হাজার ৮৭৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে তল্লাশি: ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় থাকা পাহাড়ি সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকারীরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

জেলাওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যান: ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান ৮টি জেলা থেকে উদ্ধার করা মরদেহের হিসাব অনুযায়ী—চিতওয়ানে ৩৪৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৮, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২০৮, নুয়াকোটে ১৫৫, রাসুয়ায় ১২৭, গোরখায় ৬৯, ধাদিংয়ে ৬০ এবং তানাহুন জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশাল উদ্ধার তৎপরতা ও তিব্বত সীমানার পরিস্থিতি

নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে আকাশ ও স্থলপথে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে:

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান: নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সমন্বিতভাবে ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছেন। তাঁরা এ পর্যন্ত আকাশপথ ও স্থলপথের ঝুঁকিপূর্ণ যৌথ অভিযানে ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিব্বতের চীন অংশ: নেপাল সীমান্তের নিকটবর্তী তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে একই আকস্মিক বন্যায় চীনের অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। সেখানেও এখনো ৫৪১ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’: অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের পরিণতি

হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই মানবিক বিপর্যয়ের পেছনে অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা:

পরিবেশবিদের সতর্কতা: ভারতের দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের’ (সিএসই) মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় সংবেদনশীল অঞ্চলে পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো নদী ও পাহাড়ের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দেওয়ার পরিণতিতেই আজ প্রকৃতি এমন রূপ ধারণ করেছে।

অপরিকল্পিত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র: হিমালয়ের পাহাড়ি নদীগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক মেগা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির ফলেই আকস্মিক ঢল ও ভূমিধসের এই ভয়াবহ বিপর্যয় ত্বরান্বিত হয়েছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।



Leave a Comment