নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাইজেরিয়ার তেল সমৃদ্ধ রিভার্স প্রদেশে একটি উপকূলীয় পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য চুরির (ওয়েল বাঙ্কারিং) চেষ্টাকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রক্রিয়াজাত তেলের উচ্চচাপে সৃষ্ট ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও নদীতে ডুবে গিয়ে অন্তত ৪৩ জন তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত কাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মধ্যরাতে দেশটির রিভার্স প্রদেশের ওক্রিকা এলাকার ওকারি জেটি সংলগ্ন পাইপলাইন করিডোরে এই আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটে। আজ তুর্কি সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সি’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার বিস্তার
স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত চিত্র:
২০০ তরুণের বিপজ্জনক অভিযান: নাইজার ডেল্টাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইয়েক-নাইজেরিয়া’র নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস জানান, ওক্রিকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ২০০ জনেরও বেশি তরুণ কাঠের নৌকায় করে গভীর রাতে ওকারি জেটিতে পৌঁছান।
ট্যাপিং পয়েন্টে লিক: ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার করিডোর হয়ে সরাসরি রপ্তানিমুখী জাহাজে তেল সরবরাহকারী উচ্চচাপের পাইপলাইনে অবৈধ ‘ট্যাপিং পয়েন্ট’ বসিয়ে তেল চুরির প্রক্রিয়া শুরু করেন ওই তরুণরা।
বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রাণহানি: পাইপলাইনের ভেতর অতি উচ্চচাপে থাকা পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য যখন একসাথে অপেক্ষমাণ নৌকায় বোতলজাত ও ড্রামভর্তি করা হচ্ছিল, ঠিক তখন এলাকাটিতে ভয়াবহ মাত্রার ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এতে মুহূর্তেই নৌকায় থাকা বহু তরুণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নদীতে পড়ে যান এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
নদীতে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজ: দুর্ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী নদীর পানিতে বেশ কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। অনেক তরুণ এখনও নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো।
পুলিশি তদন্ত শুরু: নাইজেরিয়া পুলিশের স্থানীয় মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে জানান, ঘটনার ভয়াবহতা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও অবৈধ বাঙ্কারিং চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।