ইরানের তিন তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল জলসীমায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান সমর্থিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর পাল্টা জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান-সংশ্লিষ্ট মোট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলা চালিয়ে তা অচল ও ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সেন্টকমের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই যৌথ হামলা ও ধ্বংসের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকম থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় এই বিমান ও নৌ হামলা চালানো হয়:
খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালি: আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত খার্গ দ্বীপের নিকটবর্তী জলসীমায় একটি এবং বিশ্বের অন্যতম তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত দ্বিতীয় ট্যাংকারটিকে মার্কিন বাহিনী ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দিয়েছে।
ওমান উপসাগর: ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত তৃতীয় আরেকটি ইরানি তেলের ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা: আইআরজিসির দিক থেকে মার্কিন একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার (বিমানবাহী রণতরী) ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মাঝআকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত বা মূল রণতরীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
আইআরজিসিকে সেন্টকম কমান্ডারের হুঁশিয়ারি
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার অত্যন্ত কড়া বার্তা প্রদান করে বলেন:
আঘাতের পাল্টা আঘাত: “তোমরা যদি আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালাও, তবে আমরা তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে তেহরানের ওপর আরও তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করব। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না এবং প্রয়োজনে ইরানের অবশিষ্টাংশ তেলবাহী নৌবহরও ধ্বংস করে দেওয়া হবে।”
গোপন অর্থায়নের পথ বন্ধ: সেন্টকম দাবি করেছে, আঘাতপ্রাপ্ত এই ৩টি ট্যাংকার আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের কাজে ব্যবহৃত শতকোটি (বিলিয়ন) ডলারের একটি অবৈধ ও গোপন বাণিজ্য নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও চলমান উত্তেজনা
চলমান এই সামরিক উত্তেজনার পারদ গত কয়েকদিন ধরে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে:
ইরানের স্বীকৃতি ও পূর্বেঘোষিত হামলা: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের তেলের ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রোববারের এক অভিযানে হরমুজ প্রণালিতে মাইনিং বা রকেট লঞ্চার বসানোর কাজে ব্যবহৃত ইরানের দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে আরও তীব্র আঘাত হানার আভাস দিয়ে বলেন, এই নতুন লড়াই দীর্ঘায়িত হবে না। অন্যদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ক্যাম্পগুলোতে হামলা চালিয়ে ক্ষোভ উসকে দিয়েছে।