ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক: ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারত সরকারের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের ভাষা ও বিন্যাস নিয়ে ঢাকা অসন্তোষ প্রকাশ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
আমন্ত্রণ বিতর্ক ও ঢাকার কঠোর প্রতিক্রিয়া
সরকারপ্রধানের মর্যাদা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, “কীভাবে যাবেন? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?” তিনি জানান, প্রেরিত চিঠিতে তারেক রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরাসরি আমন্ত্রণ না জানিয়ে কেবল আঞ্চলিক জোট ‘বিমসটেক’ (BIMSTEC)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা ঢাকা ভালোভাাবে নেয়নি।
দ্বিপক্ষীয় সফর ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: বহুজাতি বা বহুপক্ষীয় কোনো বড় সম্মেলনের আড়ালে যাওয়ার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফরের ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী সাফ জানান, “যখন পরিবেশ পুরোপুরি অনুকূল হবে এবং দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকবে, তখনই দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।”
গঙ্গা পানি চুক্তি, বাণিজ্য ও অন্যান্য সংকট
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রধান ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী:
গঙ্গা পানি চুক্তি ও জাতীয় স্বার্থ: গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন সম্পর্কিত ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকা যা-ই বলুক না কেন, সরকার কেবল নিজ দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সংলাপ: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য প্রসারে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে এ মুহূর্তে কোনো নতুন চুক্তি বা হালনাগাদ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসন: মিয়ানমার থেকে আসা বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্থায়ী প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন একটি জটিল ইস্যুর নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। তবে ঢাকা একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।