সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন ও মিসাইল হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে সমন্বিত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। একই সময়ে সৌদির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলায় লোহিত সাগর দিয়ে দেশটির তেল সরবরাহের একমাত্র বিকল্প পথটি সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনগত মধ্যরাতে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) এক বার্তায় এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও এএফপি (AFP) এ খবর প্রকাশ করেছে।
সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ও হুথিদের বক্তব্য
আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু: সৌদি ঘাঁটির ভেতরে থাকা প্রধান অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এই মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
আক্রমণের কারণ: হুথি মুখপাত্র বলেন, “যেসব স্থাপনা ব্যবহার করে আমাদের দেশ ও সাধারণ জনগণের ওপর ধারাবাহিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছিল, সেগুলোকে নির্ভুলভাবে নিশানা করা হয়েছে।” তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় তিনি উল্লেখ করেননি।
তেল পাইপলাইনে আঘাত ও প্রণালী সংকট
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ: হুথি অভিযানে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে বাইপাস করে লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য সৌদির যে একটিমাত্র বিকল্প রুট ছিল, তা আপাতত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও ওয়াশিংটনের অবস্থান
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এসব ঘটনা ও হুথিদের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন:
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হুথিদের বারাত: ট্রাম্প প্রকাশ করেন যে, হুথিরা তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে যেন তাদের অভিযানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা না হয়। ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের জানিয়েছে যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়াতে তারা আগ্রহী নয় এবং আমরা যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিই।”
ইরানি সম্পৃক্ততার সন্দেহ: সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ব্যাপারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই ধ্বংসাত্মক ঘটনার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়ছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হতে থাকলেও ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনই হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না।